ল্যাপটপের যত্ন

ল্যাপটপের যত্ন

১. ল্যাপটপ এর উপর ভারী কিছু রাখবেন না। যেহেতু, ল্যাপটপের পুরুত্ব খুব বেশি নয় এবং এর উপর প্রান্তে ডিসপ্লে (মনিটর) অংশ থেকে থাকে তাই ভারী কোন কিছু রাখা বা কোন চাপ পরার কারণে ল্যাপটপটির ডিসপ্লেতে সমস্যা হতে পারে। এখানে জানিয়ে দেয়া ভালো, প্রযুক্তির বাজারে ডিসপ্লে পরিবর্তন করাটা কিছুটা ব্যয়বহুল।

২. প্রয়োজন শেষে আপনার ল্যাপটপটির লিড নামিয়ে রাখুন। এতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনা থেকে সুরক্ষা পাবে আপনার ল্যাপটপ। এছাড়াও এর ফলে স্ক্রিনে ময়লা বা দাগ পড়বে না।

৩. অনেক সময় আমরা হাতের উপর ল্যাপটপ রেখে কাজ করি। এক্ষেত্রে ল্যাপটপ এক স্থান থেকে অন্যস্থানে সরানোর সময় কখনোই শুধু ডিসপ্লের (মনিটর) অংশে হাত রেখে সরাবেন না। হাতে রেখে কাজ করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন যেন আপনার হাত থেকে ল্যাপটপটি নিচে পরে না যায়; যদিও এখন অনেক ল্যাপটপেই ‘ফল প্রোটেকশন’ দেয়া থাকে তবুও সেই প্রোটেকশনটি খুব কম দূরত্বে থেকে পরার ক্ষেত্রেই কাজ করে। মনে রাখবেন, ইলেকট্রনিক্স দ্রব্যাদির গ্যারান্টি অথবা ওয়ারেন্টির ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম-কানুন উল্লেখ থাকে এবং সেই নিয়মের বাইরে কোন ভাবে যদি আপনি আপনার ডিভাইসটি নষ্ট করে ফেলেন সেক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি অথবা গ্যারান্টি কাজ করবেনা।

৪. স্ক্রিন প্রোটেক্টরের সাথে সাথে কিবোর্ড প্রোটেক্টরও ব্যবহার করুন। এতে করে কিবোর্ডের কীগুলোর ফাঁক দিয়ে ধুলো জমবে না। বাজারে ১৫০ টাকার মধ্যে স্ক্রিন প্রোটেক্টর এবং ৭০ থেকে ৮০ টাকার মাঝে কিবোর্ড প্রোটেক্টর পাওয়া যায়। এছাড়াও আপনি মাঝে মাঝে মিনি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়েও কিবোর্ড পরিষ্কার করতে পারেন। বাজারে ২৫০ টাকার মাঝে মিনি ইউএসবি ভ্যাকয়াম-ক্লিনার পাবেন।

৫. আমরা অনেকেই বাসার কাজের জন্যও ল্যাপটপ ব্যবহার করে থাকি। সেক্ষেত্রে আমরা সাধারণত চার্জার লাগিয়েই ল্যাপটপ ব্যবহার করি। এখানে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিৎ তা হচ্ছে, প্রতিটি ল্যাপটপ ম্যানুফ্যাকচারারই তাদের ল্যাপটপ এর ব্যাটারির সুরক্ষার ক্ষেত্রে কিছু অ্যাপ্লিকেশন সরবরাহ করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ডেল তাদের ল্যাপটপের সাথে ‘কুইকসেট’ নামের একটি অ্যাপ্লিকেশন সরবরাহ করে থাকে যেখানে কিছু অপশন থাকে যেমন, কত শতাংশ চার্জ হবার পরে ব্যাটারি আর চার্জ গ্রহণ করবেনা ইত্যাদি। কুইকসেটের সব ফিচারগুলোই ব্যাটারি রিলেটেড।

আপনিও আপনার ল্যাপটপটি জন্য এরকম অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে ব্যাটারিকে কিছুটা হলেও সুরক্ষিত রাখতে পারেন। আর সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার ব্যাটারিতে ল্যাপটপটি চালাবেন। এতে করে আপনার ল্যাপটপের ব্যাটারি ভালো থাকবে।

৬. সরাসরি সূর্যের আলো পরে অথবা স্বাভাবিকের চাইতে গরম- এমন কোন স্থানে ল্যাপটপ রাখবেন না বা ব্যবহার করবেন না। তবে মাঝে মাঝে ব্যাটারির চার্জ অর্ধেক রেখে সূর্যের আলোতে ব্যাটারি খুলে কিছুক্ষণ রেখে দিলে তা ব্যাটারির জন্য ভালো।

৭. ল্যাপটপে আপনার প্রয়োজন নেই এমন সফটওয়্যার ইন্সটল করবেন না। দরকার হলে আপনি আপনার হার্ডডিস্কে পরবর্তী সময়ে সফটওয়্যারটির ব্যাকআপ ফাইল রেখে দিতে পারেন।

৮. মাঝে মাঝেই সিস্টেম ক্লিনার সফটওয়্যার দিয়ে ল্যাপটপ কম্পিউটারটির হার্ডডিস্ক স্ক্যান করাবেন। কোন রকম সিস্টেমজনিত ত্রুটি পেলে সিস্টেম কেয়ার অ্যাপ্লিকেশনগুলোই সেগুলো ফিক্স করে দেবে। এক্ষেত্রে টিউন-আপ ইউটিলিটিস, অ্যাডভান্স সিস্টেম কেয়ার ইত্যাদি সফটওয়্যারগুলো বেশ কাজের। এগুলো ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এটি মূলত ল্যাপটপ এবং ডেস্কটপ – দু’টোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

৯. ভালো মানের অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন। ডেস্কটপ এবং ল্যাপটপের সুরক্ষার জন্য ভালো মানের অ্যান্টিভাইরাসের বিকল্প নেই।

১০. সরাসরি পোর্টেবল হার্ডডিস্ক থেকে মিডিয়া ফাইল প্লে না করাই ভালো। কেননা, এক্সটার্নাল ডিভাইসগুলোর ডাটা-আদান প্রদান করতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ শক্তির প্রয়োজন হয়; সেক্ষেত্রে ল্যাপটপের হার্ডডিস্কে কপি করে ব্যবহার করুন। একই নিয়ম পোর্টেবল সিডি-ডিভিডি রমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

১১. ল্যাপটপের বিল্ট-ইন সিডি অথবা ডিভিডি রমে ভালো সিডি-ডিভিডি ব্যবহার করতে চেষ্টা করুন। কেননা, এতে ব্যবহৃত সিডি অথবা ডিভিডি রমের লেন্স ডেস্কটপ এর সিডি – ডিভিডি রম থেকে কিছুটা কম শক্তিশালী হয়ে থাকে। ল্যাপটপের সিডি অথবা ডিভিডি রমও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রহণ করে। তাই সরাসরি সিডি অথবা ডিভিডি রম থেকে মিডিয়া ফাইল প্লে না করে হার্ডডিস্কে কপি করে তারপর প্লে করুন।

এছাড়াও আপনি যদি আপনার সিডি অথবা ডিভিডি রমের ভেতর কোন ডিস্ক রেখে থাকেন তবে আপনি ব্যবহার না করলেও মাঝে মাঝে রম কাজ করে থাকে এবং চার্জ নষ্ট হয়। তাই অপ্রয়োজনে সিডি অথবা ডিভিডি রমের ভেতর কোন সিডি অথবা ডিভিডি না রাখাই শ্রেয়।

১২. প্রয়োজন না হলে ব্লুটুথ এবং ওয়াইফাই চালু করে রাখবেন না এবং ‘শাটডাউন’ ও ‘স্লিপের’ পরিবর্তে ‘হাইবারনেট’ অপশন ব্যবহার করুন। ‘হাইবারনেট’ হচ্ছে এমন একটি অবস্থায় চলে যাওয়া যা আপনার সে মুহুর্তের কাজগুলো একটি ফাইলে জমা রেখে আপনাকে এমন একটি স্টেটে (অবস্থায়) নিয়ে যাবে যা প্রায় বিদ্যুৎ ব্যবহার না করারই সমান। পরবর্তী সময়ে সিস্টেম রিজিউম করলে আপনাকে আপনার সকল কাজের প্রোগ্রেস ঠিক সেখানেই ফিরিয়ে দেবে যেখানে আপনি হাইবারনেট করেছিলেন।

আপনি স্লিপ মোডও ব্যবহার করতে পারেন। এটি হাইবারনেট এর চাইতে দ্রুত গতিতে সিস্টেম রিজিউম করতে সক্ষম। কিন্তু এটি হাইবারনেটের চাইতে কিছুটা বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে থাকে। তাই ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখতে ‘হাইবারনেট’ অপশনটিই অধিক কাজে দেয়।

১৩. ব্যাটারিতে যখন আপনার ল্যাপটপটি ব্যবহার করবেন তখন স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখুন। ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় ল্যাপটপের ছোট ভেন্টিলেটরের সামনে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা যেন না থাকে সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখুন। অনেক দিন ব্যবহার করার পর ভেন্টিলেটরের ভেতরে ধুলো-বালির আস্তরণ পরে যায়; সেগুলো পরিষ্কার করুন।

আর আপনি যদি অ্যাডভান্স ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তবে ল্যাপটপটি খুলে ভেন্টিলেটর এবং পাখা দুটিই পরিষ্কার করতে পারেন। এতে ভালো ফল পাওয়া যাবে। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখবেন, “এটি কেবল অ্যাডভান্স লেভেলের জন্য।” এ বিষয়ে একটি তথ্য দিয়ে আমি আপনাকে কিছুটা সাহায্য করতে চেষ্টা করছি। আপনি চাইলে সহজেই ইউটিউব থেকে আপনার ল্যাপটপটির মডেল দিয়ে সার্চ করে জেনে নিতে পারেন ঠিক কীভাবে আপনার ল্যাপটপটি খুলতে হয়। আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছি, “কেবল অ্যাডভান্স লেভেলের ব্যবহারকারীদের জন্যই এটি প্রযোজ্য।”

১৪. পাওয়ার ম্যানেজমেন্টে গিয়ে আপনার কম্পিউটারটি ব্যাটারি অথবা চার্জে থাকা অবস্থায় ঠিক কত সময় পরে স্লিপ মোডে চলে যাবে বা মনিটর ডিম হবে, সে সেটিংসগুলো করে রাখুন। “স্ক্রিন সেভার” কিন্তু ব্যাটারি সেভ-এর বিপরীত কাজই করে থাকে। তাই বন্ধ করে রাখুন।

১৫. ল্যাপটপ যেহেতু বেশ গরম হয়ে যায় তাই চেষ্টা করুন কুলার ব্যবহার করতে। বাজারে ৩৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০০-৩০০০ টাকার মাঝে কুলার পাবেন। তবে আমার মতে মাঝামাঝি দামের গুলো কিনলেই আপনার কাজ চলে যাবে।

১৬. আসল অ্যাক্সেসরিস ব্যবহার করুন।

আশা করি আপনারা যদি টিপসগুলো ফলো করেন তবে কিছুটা হলেও উপকার পাবেন। মনে রাখবেন, ল্যাপটপ কেনার সময় আমরা যে এক্সেসরিজ গুলো পেয়ে থাকি সেগুলো অরিজিনাল থাকে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে অবশ্যই অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে অরিজিনাল অ্যাক্সেসরিজ কিনে ব্যবহার করবেন।

About: Dot Computer

Dot Computer offers a full scale of guaranteed Desktop and Laptop Repairing & Data Recovery Services for all computer hardware and its accessories including Network Solutions.Our aim is to fulfill your needs related to all kinds of IT products, Accessories and Best Computer Service as well as network appliances. We are prepared to troubleshoot your problems providing the best services. Here in Rangpur Division, we therefore wait for you to welcome with our gratitude. Whenever you need the necessary item for your computer at the best price, or even need merely a CCTV for security concern, if you are looking for the latest model of desktop or laptop, we are ready to satisfy you.